ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং: ক্রিপ্টোতে DCA-র সম্পূর্ণ গাইড
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং (DCA) হলো একটি বিনিয়োগ কৌশল, যেখানে ব্যক্তিরা সময়ের সাথে সাথে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ, যেমন ক্রিপ্টোকারেন্সি, নিয়মিতভাবে ক্রয় করেন।
নিয়মিত ছোট পরিমাণে বিনিয়োগ করে, DCA বিনিয়োগকারীদেরকে কম দামে সম্পদ বেশি এবং বেশি দামে কম কিনতে দেয়, ফলে সময়ের সাথে সাথে গড় খরচ কমে আসে।
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিংয়ের লক্ষ্য হলো স্বল্পমেয়াদী বাজারের অস্থিরতার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কমিয়ে অ্যাসেটের মোট ক্রয়মূল্যকে স্থিতিশীল রাখা।
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিংয়ের লক্ষ্য হলো স্বল্পমেয়াদী বাজারের অস্থিরতার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কমিয়ে অ্যাসেটের মোট ক্রয়মূল্যকে স্থিতিশীল রাখা।

ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিংয়ের ভূমিকা 📖
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং (DCA) একটি কৌশল যা এমন ট্রেডারদের জন্য সহজ বিনিয়োগ সমাধান প্রদান করতে পারে যারা মূলত তাদের ক্রিপ্টো অ্যাসেট ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করতে চান, মার্কেট সময় বা ট্রেড সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করার ঝামেলা ছাড়া।
আমাদের DCA সমীক্ষা অনুযায়ী, ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং শীর্ষ বিনিয়োগ কৌশল ছিল, যেখানে 59.13% অংশগ্রহণকারী এটিকে তাদের প্রধান কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যদিও এটি অন্যান্য কৌশলের তুলনায় লাভ বাড়ানোর নিশ্চয়তা দেয় না, ‘সেট করে ভুলে যান’ সুবিধাটি দীর্ঘমেয়াদে ক্রিপ্টো সংগ্রহ করতে চাওয়া কিছু বিনিয়োগকারীর জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে।
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং, কৌশলের সুবিধা এবং অসুবিধা এবং কিভাবে ক্রিপ্টো DCA করতে হয় সে সম্পর্কে আরও জানুন।
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং নিয়ে আমাদের ভিডিওটি দেখুন 🎥
আপনি কি পড়ার চেয়ে দেখতে পছন্দ করবেন? ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং কৌশল সম্পর্কিত সব তথ্য জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন।
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং কী? 🔎
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং হলো এমন একটি বিনিয়োগ কৌশল যেখানে একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে কোনো অ্যাসেট, যেমন ক্রিপ্টোকারেন্সি কিনে থাকেন।
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং (DCA)-এর মূল নীতি হলো, নিয়মিত ছোট পরিমাণে বিনিয়োগ করলে দামের ওঠানামার সুবিধা নেওয়া যায়। দাম কমলে একই পরিমাণ অর্থে বেশি অ্যাসেট কেনা যায়, আর দাম বাড়লে কম কেনা যায়।
এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেনা অ্যাসেটের “গড় খরচকে সমান” করতে সহায়তা করে।
এটি মার্কেটের “সময়-নির্ধারণের” গুরুত্বও কমাতে সাহায্য করে, কারণ বিনিয়োগকারীরা একবারে বড় অঙ্কের অ্যাসেট না কিনে সময়ের ব্যবধানে ধারাবাহিকভাবে অ্যাসেট সঞ্চয় করতে পারেন।
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং কীভাবে কাজ করে ⚙️
ক্রিপ্টো ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং ব্যবহারের ক্ষেত্রে একজন বিনিয়োগকারী তার বিনিয়োগের মূলধনকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে বিনিয়োগ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দামে বহুবার ক্রয় করেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন বিনিয়োগকারী প্রতি সপ্তাহে $10 ডলার মূল্যের Bitcoin বা প্রতি মাসে $50 ডলার মূল্যের Ethereum নিয়মিত কিনতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
কিছু ট্রেডারের জন্য মার্কেটের প্রবণতা সময়মতো বুঝে একসাথে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করার চেয়ে, ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং-এর বাজারে দীর্ঘমেয়াদে থাকার ওপর জোর দেওয়ার পদ্ধতি বেশি উপযোগী হতে পারে।
একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ DCA কৌশল অনুসরণ করলে, বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে আরও প্যাসিভ বিনিয়োগ পদ্ধতিতে সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে তাদের ক্রিপ্টো সম্পদ বাড়ানোর সুযোগ পান।

ক্রিপ্টোতে DCA কীভাবে করবেন
ক্রিপ্টোতে DCA করার ধাপে ধাপে গাইড খুঁজছেন?
এই রূপরেখা শুরু করার জন্য একটি ভালো জায়গা হতে পারে।

1. DCA করার জন্য একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি নির্বাচন করা
যেকোনো ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং করার আগে, বিনিয়োগকারীদের নিজস্ব গবেষণা করা উচিত।
আমাদের ক্রিপ্টো গাইড পৃষ্ঠা আপনাকে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রকার সম্পর্কে জানতে সাহায্য করতে পারে, তবে বিভিন্ন উৎস পর্যালোচনা করতে ভুলবেন না।
যেহেতু DCA একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ কৌশল, এটি সাধারণত সেই বিনিয়োগকারীরাই ব্যবহার করেন যারা কোনো ক্রিপ্টোকারেন্সির ভবিষ্যতের উপর দীর্ঘমেয়াদী আস্থা রাখেন, তাদের জন্য নয় যারা স্বল্পমেয়াদী মূল্য ওঠা-নামার ওপর নির্ভর করে খেলতে চান।
DCA করার জন্য কোনো ক্রিপ্টোকারেন্সি বেছে নেওয়ার সময় কিছু বিষয় বিবেচনা করা উচিত:
- ডিজিটাল অ্যাসেটের স্থায়িত্ব পরীক্ষা করা। যেহেতু DCA-এর লক্ষ্য হলো কয়েক মাস বা বছরের মধ্যে নিয়মিতভাবে একটি অ্যাসেট সংগ্রহ করা, তাই ডিজিটাল অ্যাসেটগুলোকে বাজারে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার যোগ্যতা প্রদর্শন করতে হবে।
- ক্রিপ্টোকারেন্সির মৌলিক দিকগুলো সম্পর্কে জানুন। এর মধ্যে থাকতে পারে প্রকল্পের হোয়াইট পেপার পড়া, প্রকল্পের দলের সম্পর্কে তথ্য জানাশোনা, তার সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলগুলো দেখা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির টোকেনোমিক্সবোঝা।
- বর্তমান বাজারের প্রবণতাগুলো মূল্যায়ন করা। DCA শুরু করার আগে ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কিত প্রবণতা এবং বাজার কেমন থাকতে পারে তা বিবেচনা করুন।
- ট্রেডিং ভলিউম,লিকুইডিটি এবং অতীত মূল্যের পারফরম্যান্সের মতো সূচকগুলো বিবেচনা করুন। অনলাইন ফোরাম এবং বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ মাধ্যম মনিটর করা ব্যবসায়ীদের বাজারের মনোভাব বোঝার সুযোগ দেয় এবং কোনো অ্যাসেটের দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা নিয়ে একটি থিসিস তৈরি করতে সাহায্য করে।
যদিও “আমি কোন ক্রিপ্টোকারেন্সিতে DCA করব?” এর উত্তর প্রত্যেকের জন্য ভিন্ন হতে পারে, তবুও সব বিনিয়োগকারী উপকৃত হবেন অ্যাসেট এবং এর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে গভীর ধারণা তৈরি করে।

2. একটি অর্ডারের পরিমাণ সেট
ক্রিপ্টোকারেন্সিতে কতটা বিনিয়োগ করবেন তা ঠিক করার সময় বিনিয়োগকারীদের জন্য তাদের আর্থিক পরিস্থিতি এবং লক্ষ্যগুলো বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রিপ্টোতে বিনিয়োগের সঙ্গে ঝুঁকি জড়িত এবং বাজারের ওঠাপড়া খুব ঘন ঘন হতে পারে। ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং করলেও, ব্যবসায়ীদের কখনও সেই পরিমাণ মূলধন ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয় যা তারা হারাতে প্রস্তুত নন।
ক্রিপ্টোকারেন্সিতে কতটা বিনিয়োগ করবেন তা ঠিক করার সময় কিছু বিষয় বিবেচনা করা উচিত।
- অ্যাসেটের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও বাজারের ওঠাপড়া: এটি আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে, নিয়মিত কত টাকা বিনিয়োগ করা আপনার জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক।
- আপনার নিয়মিত প্রয়োজনীয় খরচগুলো মাথায় রাখুন: বিল, ভাড়া/মর্টগেজ, বাজারের খরচ এবং সঞ্চয় নির্ধারণ করে যে একজন ব্যক্তি কতটা মূলধন বিনিয়োগ করতে পারবেন। আপনি আপনার মাসিক খরচগুলো ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের জন্য একটি যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারেন, যাতে আপনার আর্থিক চাহিদা ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।
- একটি সীমা সেট করুন: কিছু ব্যবসায়ী ঝুঁকি কমাতে তাদের সঞ্চয়ের মাত্র 10% ক্রিপ্টোতে বিনিয়োগ করার কথা বিবেচনা করতে পারেন।
3. বিনিয়োগ করার জন্য একটি সময় বেছে নেওয়া এবং অর্ডারটি দেওয়া
ক্রিপ্টোতে DCA করার কোনো "সঠিক" সময় নেই। একজন বিনিয়োগকারীর ক্রয়ের সময় নির্ভর করে তার ব্যক্তিগত পছন্দ এবং লক্ষ্যগুলোর ওপর।
যেসব ব্যবসায়ী প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহ বা মাসে ক্রয় করার সর্বোত্তম সময় খুঁজতে চান, তারা অ্যাসেটের অতীত মূল্যের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে দেখতে পারেন যে কি কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সামান্য ভালো ফলাফল পাওয়া যায় কি না।
তবে, যেহেতু ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিংয়ের মূল ধারণা হলো ব্যবসায়ীদেরকে বাজারের সময় নির্ধারণ করতে হবে না, তাই বিনিয়োগকারীরা যে কোনো সময়সীমা বেছে নিতে পারেন যা তারা সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করেন।
আপনি কত সময় পর্যন্ত ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং কৌশল ব্যবহার করবেন?⏳
ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করার সময় ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং কতদিন ব্যবহার করতে হবে সে সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট উত্তর নেই।
কিছু শিল্প বিশ্লেষক বলেন 6-12 মাস যথেষ্ট, অন্যরা কয়েক বছরের সময়সীমা সুপারিশ করেন।
এটি শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত আর্থিক লক্ষ্য এবং তারা ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার এ বিনিয়োগ করতে কতদিন প্রস্তুত তা নিয়ে আসে। বাজারের পরিস্থিতিও যে কোনো ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং কৌশলের ফলাফলের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
DCA এর সুবিধা ✅
কিছু লোক মনে করেন যে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করার জন্য ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং কৌশল ব্যবহার করলে নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো হতে পারে:
- মূল্য ওঠানামার প্রভাব কমানো এবং অস্থিরতার পরিস্থিতিকে মসৃণ করা।
- ট্রেডিং প্রক্রিয়ায় আবেগের প্রভাব কমানো।
- “সঠিক” সময়ে কেনার চেষ্টা করার মতো অসম্ভব কাজ এড়িয়ে যাওয়া।

এটি সহজেই করা যায়
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং পদ্ধতি ব্যবহারের প্রধান সুবিধাগুলোর মধ্যে থেকে একটি হলো এটি অন্যান্য ট্রেডিং-এর কৌশলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত সহজ।
এই সিস্টেম ব্যবহার করার সময় নতুন বিনিয়োগকারীদের যা নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই:
- প্রতিটি ট্রেড অর্ডার ম্যানুয়ালি দেওয়া।
- প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করার জন্য একাধিক সূচক ব্যবহার করা।
- ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট দেখার জন্য সারারাত জেগে থাকা।
বরং, তাদের কেবল সিদ্ধান্ত নিতে হবে:
- কোন ক্রিপ্টোকারেন্সিতে DCA করতে হবে
- কত ঘন ঘন বিনিয়োগ করতে হবে
- প্রতি ধাপে বিনিয়োগের পরিমাণ
- প্রতিটি ট্রেড করার নির্দিষ্ট সময় বা দিন কোনটি হবে
দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিতভাবে বিনিয়োগ করলে, মোট খরচের ভিত্তি (একটি অ্যাসেটের ক্রয়মূল্য) এমনকি কম হতে পারে যদি ব্যবসায়ী একবারে সমস্ত মূলধন বিনিয়োগ করতেন।
বাজারের ওঠাপড়া কম।
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজ কৌশল কিছু ট্রেডারকে ক্রিপ্টো মার্কেটের অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সময়ের ভিত্তিতে বিনিয়োগ ভাগ করে আরও ভালোভাবে বিনিয়োগ করতে সাহায্য করতে পারে।
আমাদের DCA সার্ভের বিনিয়োগকারীরাও বলেছিলেন যে বাজারের অস্থিরতার প্রভাব কমানো DCA কৌশলের প্রধান সুবিধা (46.13%), এর পর আসে নিয়মিত বিনিয়োগ (23.95%)।
যদিও এটি কিছুটা বাজারের অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে, তবুও এটি বোঝা জরুরি যে এই কৌশল লাভের নিশ্চয়তা দেয় না।
ক্রিপ্টো মূল্যের পতনের সময় নিয়মিত বিরতিতে ক্রয় করা মানে বিনিয়োগকারীরা ধারাবাহিকভাবে নিম্ন মূল্যে ক্রয় করছেন। সময়ের সাথে সাথে, এটি একটি ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রতি ইউনিটের গড় খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বেশি রিটার্নের সম্ভাবনা দেয়।
তবে, এই অনুমানটি নির্ভর করছে ভবিষ্যতে মূল্য আবার উচ্চ স্তরে ফিরে আসার ওপর।
অন্যদিকে, দাম বাড়ার সময় নিয়মিতভাবে বাজারে বিনিয়োগ করলে, এককালীন বিনিয়োগের তুলনায় প্রতি ইউনিটের গড় মূল্য বাড়বে। যদি ব্যবসায়ী তাদের অ্যাসেটকে নগদে ফেরত রূপান্তর করেন যখন দাম তাদের গড় মূল্যের নিচে থাকে, তবে এটি সম্ভাব্যভাবে লাভ হ্রাস বা এমনকি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সুতরাং, যদিও DCA বাজারের ওঠাপড়া মোকাবেলার জন্য একটি কৌশলগত পদ্ধতি সরবরাহ করে, এর সফলতা শেষ পর্যন্ত ক্রিপ্টো মূল্যের গতিপথের ওপর নির্ভর করে।
ট্রেডিং-এ কম আবেগ জড়িত থাকে
যখন বিনিয়োগকারীরা মার্কেটের স্বল্পমেয়াদে ওঠা-নামা বা খবর বা কোনো ঘটনার প্রতি তীব্রতর প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন তখন আবেগের ভিত্তিতে ট্রেডিং ঘটে।
এর ফলে হঠাৎ করে কেনা বা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যা প্রায়শই দুটি সাধারণ অনুভূতির দ্বারা প্রভাবিত হয়:
- সবার সাথে তাল মিলিয়ে না চলার ভয় (FOMO)
- ভয়, অনিশ্চয়তা এবং সন্দেহ (FUD)
এমন আবেগগুলো কখনও কখনও বিচার ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয় এবং এর থেকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে খারাপ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং কৌশল ব্যবহার করে, বিনিয়োগকারীরা তাদের আবেগকে সরিয়ে রেখে মার্কেটের উত্থান-পতনের উপর নির্ভর না করেই নিয়মিত এবং পূর্বনির্ধারিত বিনিয়োগের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে পারেন। বাজারের সঠিক সময়ে বিনিয়োগ বা নতুন ট্রেন্ড ধরার জন্য চাপ অনেকটা কম থাকে। পরিবর্তে, তারা ক্রিপ্টো অ্যাসেট দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয় করার ওপর মনোনিবেশ করতে পারে।
বাজারের সময় ধরার কোনো প্রয়োজন নেই
বাজারের সময় নির্ধারণ বলতে বোঝায় সেই কৌশলকে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা লাভ সর্বাধিক করার লক্ষ্যে ঠিক কোন সময়ে কেনা বা বিক্রি করা উচিত তা পূর্বানুমান করার চেষ্টা করেন।
তবে, দীর্ঘমেয়াদে বাজারের সময় নির্ধারণ করা প্রয়োজনীয় বা লাভজনক নাও হতে পারে এমন কিছু কারণ রয়েছে।
- বাজারের সময় ধরার জন্য বাজারের ওঠা-নামার সঠিক পূর্বানুমান করা লাগে, যা পেশাদার বিনিয়োগকারীর জন্যও খুব কঠিন। অর্থনৈতিক সূচক, রাজনৈতিক ঘটনা বা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের মতো অনেক অনিশ্চিত কারণ ক্রিপ্টো বাজারকে প্রভাবিত করে।
- বাজারের সময় ধরার চেষ্টা করলে প্রায়শই ঘন ঘন কেনা-বেচা করতে হয়, যার ফলে ট্রেডিং ফি বাড়তে পারে। এই খরচগুলো সম্ভাব্য লাভকে কমাতে পারে এবং যে কোনো ইতিবাচক বিনিয়োগের রিটার্নকে ক্ষয় করতে পারে।
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিংয়ের অসুবিধা ❌
যদিও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং ব্যবহারের কিছু সুবিধা রয়েছে, তবুও এটি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত নয়।
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং-এর কিছু সম্ভাব্য অসুবিধা নিচে দেওয়া হলো।
অতিরিক্ত খরচ
ঘন ঘন ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং অর্ডার দিলে আরো বেশি ফি আরোপ হতে পারে, বিশেষত কেন্দ্রীভূত ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে ট্রেডিং করার সময়, যা সময়ের সাথেই বাড়তে পারে।
কম আয়
কিছু শিল্পপতি দাবি করেন যে DCA কৌশল ব্যবহার করলে অন্যান্য ট্রেডিং সিস্টেমের তুলনায় প্রত্যাশার চেয়ে কম রিটার্ন হতে পারে, বিশেষ করে যদি এই পুনরাবৃত্তিমূলক কেনাকাটার বড় অংশ ঊর্ধ্বমুখী মার্কেটে করা হয়ে থাকে।
কম নমনীয়তা
যে সব বিনিয়োগকারী একাধিক অ্যাসেটের মধ্যে ট্রেডিং করার পরিবর্তে দীর্ঘ সময় ধরে শুধুমাত্র একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি (যেমন Bitcoin)কিনবেন বলে মনস্থির করে থাকেন, তারা অন্য সম্ভাব্য লাভজনক সুযোগগুলো মিস করতে পারেন যা ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং-এর মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
DCA করার জন্য প্রস্তুত? 💭
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং লোকেদের জন্য নিয়মিতভাবে তাদের ক্রিপ্টো পোর্টফোলিও তৈরি করার একটি সহজ উপায় প্রদান করে।
Kraken গ্রাহকদের কয়েকশো আলাদা আলাদা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পুনরাবৃত্তিমূলক কেনাকাটা সেট আপ করতে দেয়, যাতে মার্কেটের অবস্থা যাই হোক না কেন তারা নিয়মিতভাবে কয়েন সংগ্রহ করতে পারেন।
আজই Kraken-এ পুনরাবৃত্তিমূলক কেনাকাটা সেট আপ করে ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং শুরু করুন।
পুনরাবৃত্ত ক্রয় স্থাপনের ফলে আপনার কার্ডটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আপনার নির্বাচিত ফ্রিকোয়েন্সিতে চার্জ করা হবে। আপনি যে কোনও সময় বাতিল করে দিতে পারেন। পুনরাবৃত্ত ক্রয় আদেশগুলি ম্যানুয়াল অর্ডারের অনুকূল দামে কার্যকর হবে এমন কোনও গ্যারান্টি নেই।